নেতাজী মৃত্যু রহস্য ঃ সত্যিই কি ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বেঁচেছিলেন নেতাজী ?

Last modified date

Comments: 0

gumnami baba

সুভাষচন্দ্র বসু – এই নামটা শুনলে আমরা বাঙালীরা কিংবা ভারতীয়রা কেমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। ইনাকে সারা ভারতের ছোটো থেকে বুড়ো সবাই নেতাজী নামে চিনি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এই বীরপুরুষের জন্ম ১৮৯৭ সালে ২৩শা জানুয়ারি কটকে। কিন্তু যখন তাঁর মৃত্যুর তারিখ বা স্থান যখন আমরা জানতে চাই তখন উঠে আসে নানারকম তথ্য। কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। কেউ বলে তিনি জাপানে ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। আবার কেউ কেউ বলেন তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে যান আর সেখানে তাঁকে খুন করে মেরে ফেলা হয়। আরও একটা তথ্য উঠে আসে তা হল তিনি ভারতেই ছদ্মবেশে লুকিয়েছিলেন এবং ১৯৮৫ সালে মারা যান। তবে এই তথ্য অনেকের কাছেই এখনও অজানা। যারা নেতাজির মৃত্যুরহস্য নিয়ে তথ্য সন্ধান করেন তারাই হয়তো এই তথ্যটি সম্বন্ধে অবগত থাকবেন।

নেতাজীর মৃত্যুরহস্য জানতে গেলে প্রথমে যে তথ্যটি প্রথমে উঠে আসে তা হল , ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোম নিক্ষেপ করে তাঁর ফলস্বরূপ অগনিত মানুষ মারা যায়, তখন জাপান আমেরিকার কাছে হার স্বীকার করে ও ১৫ই অগাস্ট আত্মসমর্পণ করে।সেসময় নেতাজী সিঙ্গাপুরে ছিলেন। নেতাজী ও তাঁর আজাদ-হিন্দ বাহিনী যেহেতু বিশ্বযুদ্ধে জাপানের সঙ্গী ছিলেন তাই তিনি আজদ-হিন্দ বাহিনীর আত্মসমর্পণের ব্যাপারে সেসময় জাপানের সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা করার জন্য ১৬ই অগাস্ট সিঙ্গাপুর থেকে জাপানের টোকিও-এর দিকে রওনা দেন। প্রথমে ১৬ তারিখ তিনি ব্যাংকক থেকে ১৭তারিখ সায়গঞ্জ পৌঁছন। ১৭তারিখ সন্ধায় সায়গঞ্জ থেকে টোকিও-এর উদ্দ্যেশে রওনা দেন। রাতে তুরিন নামক একটি জায়গায় থামেন। ১৮তারিখ সকালে সেখান থেকে দুপুরে মাতসুয়ামা এয়ারবেসে নামেন। এবার ওখান থেকে বিমান ওড়ার সময় ওই বিমান ওই এয়ারবেসেই ভেঙ্গে পড়ে। সেখানেই তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। তারপর তাঁর মরদেহ ওখানেই দাহ করা হয় ও তাঁর চিতাভষ্ম ওখান থেকে জাপানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই চিতাভষ্ম রনকোঝি মন্দিরে রাখা হয়। ওই চিতাভষ্ম নাকি এখনও ওখানে রাখা আছে।

দ্বিতীয় তথ্যটি হল, আলফ্রেড ওয়াক নামের এক আমেরিকান সাংবাদিক জানান যে নেতাজী জাপানের বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাননি,তিনি বেঁচে আছেন এবং তিনি নেতাজীকে দেখেছেন। তখন তৎকালীন ইংরেজ সরকার একটি টিম বানায় এবং এই ব্যাপারে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ,অনুসন্ধান চালাতে থাকে। অনুসন্ধানের জন্য তারা ব্যাংকক, জাপানের বহু জায়গা যায় ও অনেক অনুসন্ধান চালায়। তারা জানতে পারে যে নেতাজীর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা পুরোটাই মুখেশোনা কাহিনী। এর কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। তারা এও জানতে পারে যে নেতাজীর টোকিও যাওয়ার ঘটনাটাও পুরোপুরি মিথ্যে ও সাজানো। এই সাজানো ঘটনার পেছনে হাত রয়েছে জাপান সেনাবাহিনী ও নেতাজী নিজে। নেতাজী আসলে টোকিও না গিয়ে রাশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এর পরে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৫৫-৫৬ সালে ভারত সরকার নেতাজীর মৃত্যুরহস্যের অনুসন্ধানের জন্যে শাহানয়াজ কমিশন গঠন করে, পরে খোসলা কমিশন গঠন করে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী নেতাজী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর বহু বছর পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অটল বিহারী বাজপেয়ি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মুখার্জি কমিশন গঠন হয় এই একই ব্যাপারে অনুসন্ধানের জন্য। ২০০৫ সালে এই কমিশনের রিপোর্ট আসে যে নেতাজীর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা পুরোপুরি মিথ্যে ও সাজানো। এর মাঝে তাইওয়ানের সরকারে খবর আসে যে যে বিমানঘাঁটিতে বিমান দুর্ঘটনার কথা বলা হচ্ছে সেখানে ওইসময় একমাসের মধ্যে কোনও বিমান দুর্ঘটনাই হয়নি।

কিন্তু এই রিপোর্টটি তৎকালীন কংগ্রেস সরকার খারিজ করে দেয়।

তৃতীয় তথ্যটি হল ফয়জাবাদে ভগবান জী (গুমনামি বাবা) । এই গুমনামি বাবার ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসে ১৯৮৫ সালে তাঁর মারা যাওয়ার পরে। তাঁর মারা যাওয়ার পরে তাঁর বাসস্থান থেকে প্রায় ২৪-২৬টি বাক্স পাওয়া যায়। ওখান থেকে পাওয়া যায় জার্মানির দূরবীন, বেলজিয়াম এর টাইপ-রাইটার, কিছু ২য় বিশ্বযুদ্ধের তৎকালীন মানচিত্র, নেতাজীর ব্যবহৃত চশমার মতো চশমা, নেতাজীর বাবা ,মায়ের ,আত্মীয়ের ছবি ও আরও অনেক কিছু। স্থানীয় লোকেদের মতে, গুমনামি বাবা নিজেকে সবার থেকে লুকিয়ে রাখতেন, পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলতেন, কিছু বিশেষ বিশেষ লোকের সাথে কথা বলতেন।তাঁর কোনও ছবি নেই কিন্তু যারা তাঁকে দেখেছেন তাদের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী একজন স্থানীয় শিল্পীর আঁকা ছবিটির সাথে নেতাজীর অনেকটা মিল আছে। এই গুমনামি বাবার সাথে নেতাজীর গায়ের রঙ, উচ্চতা, হাতেরঅক্ষর, জন্মদিন ও জন্মসাল সব একই। এছাড়াও অনেক তথ্য আছে যার সাথে নেতাজীর অনেক মিল আছে।

নেতাজীর মৃত্যুররহস্য নিয়ে অনেক বছর ধরে রিসার্চ করে আসছেন ২জন বিখ্যাত সাংবাদিক ও তাদের কয়েকজন সঙ্গী। তারা হলেন অনুজ ধর ও চন্দ্রচুড় ঘোষ। নীচে তাদের একটি ভিডিও দেওয়া হল যেখানে তারা তাদের রিসার্চের তথ্য বিশদে আলোচনা করেছেন। তারা একটি বই প্রকাশ করেছেন। বইটির নাম হল ‘CONUNDRUM’। বইটি তে তারা দাবি করেছেন যে এই গুমনামি বাবাই হলেন নেতাজী। তাদের এই বক্ত্ব্যের পেছনে অজস্র প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছেন। যদি আপনি সত্যিই নেতাজীর ব্যাপারে বিশদে জানতে চান তাহলে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখার অনুরোধ জানাই। ভিডিওটি দেখার পর নীচে কমেন্টে আপনার মতামত জানান যে আপনার কি মনে হয় যে এই গুমনামি বাবাই কি আসলে নেতাজী ?

Guest

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Post comment